সেখ সাবির আলী (মহেশতলা ):-আজ থেকে প্রায় ৪০০ বছর পূর্বে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছিলেন হযরত দেওয়ানজী। সেই পবিত্র দিনটিকে স্মরণে উত্তরপ্রদেশের জনপুর শরীফ সহ সারা ভারতবর্ষে তাঁর ভক্তরা গভীর শ্রদ্ধায় পালন করেন ওরস পাকের ফাতেহা। আধ্যাত্মিক সাধনা ও মানবিক বার্তার মধ্য দিয়ে এই দিনটি আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে জীবন্ত।
মূল অনুষ্ঠান জনপুর শরীফে অনুষ্ঠিত হলেও, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজের চিংড়িপোতা এলাকার রশিদনগর শরীফেও এই দিনটি বিশেষ মর্যাদায় পালিত হয়।
প্রায় ১৫ বছর আগে রশিদনগর শরীফে আগমন করেছিলেন বর্তমান হর্তাকর্তা সৈয়দ আজগর আলী রশিদের আব্বা হুজুর, পীর মুর্শিদ সৈয়দ শাহ আমির আলী রশিদী। নির্দিষ্ট তারিখে তাঁকে জনপুর শরীফের অনুষ্ঠানে থাকতে হওয়ায় একই দিনে দুই স্থানে উপস্থিত থাকা সম্ভব হয়নি। তাই ১০ই রমজান, যেদিন তিনি রশিদনগর শরীফে উপস্থিত ছিলেন, সেই দিনটিকেই স্মরণীয় করে তাঁর নাম ও গাউস পাকের নামে প্রতিবছর ওরস পাকের ফাতেহা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
বর্তমানে রশিদনগর শরীফের মূল দায়িত্বভার যার কাঁধে, তিনি হলেন হাফেজ মোহাম্মদ মিরাজ আমিরী রশিদি। তাঁর তত্ত্বাবধানে প্রতি উর্দু মাসের ১০ তারিখে গাউস পাকের মাহফিল আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রায় ৩০০ জন ভক্তের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
পবিত্র রমজান মাসের ১০ই রমজানে অনুষ্ঠিত ওরস পাকের ফাতেহায় কয়েকশো মানুষের সমাগম ঘটে। ইফতারের সুব্যবস্থার পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য ঈদের নতুন পোশাক, চাল-ডাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে মানবসেবার এই উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের প্রশংসা অর্জন করেছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ইসলামিক শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে একটি বড় মাদ্রাসা এবং ইবাদতের জন্য একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্যে জমি দান করেছে রশিদনগর শরীফ সংস্থা। স্থানীয়দের মতে, শিক্ষা ও ইবাদতের এই মহতী উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সাদাকায়ে জারিয়া হিসেবে পরিগণিত হবে।
আধ্যাত্মিক সাধনা, মানবসেবা এবং শিক্ষার প্রসার—এই তিনকে সামনে রেখে রশিদনগর শরীফ আজ এক অনন্য ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক হয়ে উঠেছে।