৮০ হাজারের বেশি বুথ, প্রতিটি বুথে ওয়েব কাস্টিং ও ভোটার সহায়তা কেন্দ্র—ভোটে কোনও হিংসা বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা নির্বাচন কমিশনের।

সেখ সাবির আলী (সল্টলেক):-
মঙ্গলবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করে পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানালেন ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেস কুমার । তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর এবং কোনও ধরনের হিংসা বা ভয় দেখানো বরদাস্ত করা হবে না।
সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, এবার পশ্চিমবঙ্গে ৮০ হাজারের বেশি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র বা বুথ থাকবে। প্রতিটি বুথে সর্বোচ্চ ১২০০ জন ভোটার রাখা হবে, যাতে ভোট প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ হয়। পাশাপাশি স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি বুথে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হবে বলেও জানান তিনি।
ভোটারদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে প্রতিটি বুথে ভোটার সহায়তা কেন্দ্র, পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং বুথের বাইরে মোবাইল ফোন রাখার আলাদা জায়গা থাকবে বলেও জানান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
তিনি আরও বলেন, ভোটের কাজে যুক্ত কর্মীদের ভয় দেখানো বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বৈধ কোনও ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার বিবেক যোশি সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল.
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি জানান, স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির জন্য বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪–৫ শতাংশ ভোটার নিজেদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারেননি, যাদের ‘আনম্যাপ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রায় ৭–৮ শতাংশ ক্ষেত্রে তথ্যগত কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে, যাদের শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে।
বিচারাধীন প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটার ভোট দিতে পারবেন কিনা, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্পষ্ট নয় বলে জানান তিনি। আদালতের নিযুক্ত বিচারক ও বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা এই সংক্রান্ত নথি যাচাই করছেন। ইতিমধ্যে কলকাতা হাইকোর্ট -এর প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টকে -কে জানিয়েছেন যে ১০ লক্ষের বেশি ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, বাকি প্রায় ৫০ লক্ষ ভোটারের বিষয়টি এখনও বিচারাধীন।
কত দফায় ভোট হবে সেই প্রসঙ্গে জ্ঞানেশ কুমার জানান, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেই ভোটের দফা চূড়ান্ত করা হবে। রাজনৈতিক দলগুলির কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া হয়েছে এবং দিল্লি ফিরে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচনার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ, তাই সকলেরই মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক মন্তব্যের জবাব দেয় না বলেও জানান তিনি।
ইভিএম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি কোনও ক্ষেত্রে ইভিএমে তথ্যের গরমিল দেখা যায়, তাহলে তা সম্পূর্ণভাবে পরীক্ষা করা হবে এবং কাউন্টিং এজেন্টদের সামনেই সেই পরীক্ষা করা হবে। নির্বাচনের দিন দুই ঘণ্টা অন্তর কমিশনের অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে ভোটের হার প্রকাশ করা হবে।
তিনি আরও জানান, কোনও প্রার্থী চাইলে নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৭ দিনের মধ্যে ইভিএম পরীক্ষা করানোর আবেদন করতে পারবেন।
শেষে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও হিংসামুক্ত ভোট করানোই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। ভোটের কাজে যুক্ত কোনও আধিকারিক যদি রাজনৈতিক দলের নির্দেশে কাজ করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্কবার্তা দেন তিনি।