ssstarnewsdigital.com

7003054204

ঐতিহাসিক ব্রিগেড! বাংলার নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী.



সেখ সাবির আলী (কলকাতা)
ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন ইতিহাসের সাক্ষী থাকল বাংলা।
পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী তথা বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বাংলা ভাষাতেই শপথ গ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী।
রাজ্যপাল আর এন রবি তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
শপথ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী সহ একাধিক এনডিএ শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেডে আগমন ঘিরে জনসমুদ্রে তৈরি হয় তুমুল উচ্ছ্বাস।


মঞ্চে উঠে বাংলার মানুষকে উদ্দেশ্য করে হাতজোড় করে প্রণাম জানান তিনি, এরপর সাষ্টাঙ্গে মাথা নত করে জনতা জনার্দনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মোদির এই আবেগঘন মুহূর্তে ব্রিগেড জুড়ে ধ্বনিত হয় করতালি, জয়ধ্বনি ও নতুন বাংলার প্রত্যাশা।
গেরুয়া বসনে শুভেন্দু শপথ শুরু করতেই ব্রিগেডে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে জনসমুদ্র।
শপথ শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রণাম করেন শুভেন্দু, তাকে আলিঙ্গন করেন মোদি।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ গেরুয়া উত্তরীয় পরিয়ে শুভেন্দুকে শুভেচ্ছা জানান।
শুভেন্দুর সঙ্গে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু ও অশোক কীর্তনীয়া।
শপথের পরই একাধিক কর্মসূচি—জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি, ভারত সেবাশ্রম সংঘ, কালীঘাট মন্দিরে পুজো এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে কাঁথির শান্তিকুঞ্জে সকাল থেকেই ছিল উৎসবের আবহ।
জায়ান্ট স্ক্রিনে শুভেন্দুর শপথ গ্রহণ সম্প্রচার হতেই আবেগে ভাসেন কাঁথিবাসী।
আবির খেলায় মেতে ওঠেন সমর্থকরা, চলে মিষ্টিমুখ, বাজি, শঙ্খধ্বনি এবং জয় শ্রীরাম স্লোগান।
শান্তিকুঞ্জ থেকে গোটা কাঁথি জুড়ে যেন এক উৎসবের শহরে পরিণত হয় পূর্ব মেদিনীপুর।
ঘরে বসেই ছেলে শুভেন্দুর ঐতিহাসিক শপথের সাক্ষী থাকেন শিশির অধিকারী ও গায়ত্রী অধিকারী।
আবেগঘন কণ্ঠে শিশির অধিকারী বললেন—
“শুভেন্দু ইতিহাস সৃষ্টি করেছে, মানুষের জন্য কাজ করুক, রাজ্যের উন্নয়ন করুক।”

ব্রিগেডের শপথ মঞ্চে আরেক আবেগঘন মুহূর্ত—৯৭ বছরের প্রবীণ বিজেপি নেতা মাখনলাল সরকারকে বিশেষ সম্মান জানান প্রধানমন্ত্রী।
১৯৮০ সালে বিজেপির প্রতিষ্ঠার পর উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় সংগঠনের ভিত শক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি।
পশ্চিম দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলায় সাংগঠনিক সমন্বয়কারী হিসেবে অল্প সময়ে হাজার হাজার কর্মী যুক্ত করে দলকে শক্তিশালী করেন।
টানা সাতবার জেলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি বিরল রাজনৈতিক নজির গড়েন।
১৯৫২ সালে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সহযোদ্ধা হিসেবে তার সংগ্রামী অধ্যায় আজও বিজেপির ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়।

বাংলায় বিজেপি সরকারের সূচনায় ব্রিগেড থেকে কাঁথি—উৎসব, আবেগ, ইতিহাস আর নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা।