ssstarnewsdigital.com

7003054204

দক্ষিণ দমদম পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেপ্তার সুজিত বসু | বিজেপি সরকার আসতেই বড় পদক্ষেপ

সেখ সাবির আলী (সল্টলেক):-বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বড়সড় তৎপরতা তদন্তকারী সংস্থার। দক্ষিণ দমদম পৌরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেপ্তার
হলেন প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা সুজিত বসু।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, দীর্ঘ প্রায় সাড়ে দশ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর সুজিত বসুকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর্থিক অসংগতি, তদন্তে অসহযোগিতা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে। আগামীকাল তাঁকে আদালতে পেশ করবে ইডি।
জানা গিয়েছে, নির্বাচনের সময়ও সুজিত বসুকে তিনবার হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল তদন্তকারী সংস্থা। তবে বারবার হাজিরা এড়িয়ে যান তিনি বলেই অভিযোগ। এর আগেও একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয় প্রাক্তন দমকলমন্ত্রীকে।
এই মামলার সূত্রপাত সিবিআইয়ের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে। সেই মামলার ওপর ভিত্তি করেই ইসিআইআর করে তদন্ত শুরু করে ইডি। অভিযোগ, দক্ষিণ দমদম পৌরসভায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে এবং সেখানে ৩২৯ জন অযোগ্য প্রার্থীকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, এমনও অভিযোগ রয়েছে যে শূন্য নম্বর পাওয়া প্রার্থীদেরও চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল সুজিত বসুর নির্দেশে। নিয়োগে টাকার লেনদেন ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগও সামনে এসেছে।
তদন্ত চলাকালীন সুজিত বসুর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের একাধিক অফিসে তল্লাশি চালায় ইডি। তারাতলায় এক ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীর অফিসে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
অন্যদিকে, সুজিত বসুর ছেলের রেস্তোরাঁতেও হানা দেয় তদন্তকারী দল। সেখান থেকে প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয় বলে জানা গিয়েছে। ইতিপূর্বে সুজিত বসুর পরিবারের সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি।
এছাড়াও সুজিত বসুর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। সম্পত্তির উৎস, আর্থিক লেনদেন এবং পৌরসভার নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পালা বদলের পর বাংলায় দুর্নীতি মামলায় এই প্রথম কোনও প্রাক্তন মন্ত্রীর গ্রেপ্তারিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা। এখন নজর আদালত ও তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। এই মামলায় আরও কোনও প্রভাবশালী নাম সামনে আসে কিনা, সেটাই দেখার।